ঈদুল আজহা ঘিরে ট্রেনযাত্রাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে এবারও কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের অস্থায়ী বেড়া ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ। স্টেশনের বিভিন্ন অংশ ঘিরে সারিবদ্ধ লাইন তৈরির মাধ্যমে যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গত ১৭ মে ঈদযাত্রার অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। সেদিন ২৭ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ২১ মে থেকে, যা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ২৭ মে’র ট্রেনই ঈদযাত্রার শেষ অগ্রিম ট্রেন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা করে বাঁশের বেড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। স্টেশনে ঢোকার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে টিকিট দেখাতে হচ্ছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি ঈদেই বিপুলসংখ্যক বিনা টিকিটের যাত্রী ট্রেনে ওঠেন। এতে বৈধ টিকিটধারীদের ভোগান্তি বাড়ে, কামরায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয় এবং যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জানান, শুধুমাত্র টিকিটধারী যাত্রীরা যেন ট্রেনে উঠতে পারেন, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “টিকিটের যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। স্টেশনে প্রবেশের সময় টিকিট যাচাই করা হবে।”
কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তা মাসুদ সারওয়ার বলেন, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শেষ হলেও যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বাঁশের বেড়া মূলত যাত্রীদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ এবং টিকিট যাচাইয়ের সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আগের বছরগুলোতে বিমানবন্দর, টঙ্গী ও জয়দেবপুর স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে বিনা টিকিটের যাত্রী ওঠার ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই সুযোগ কমিয়ে আনতে কমলাপুর ছাড়াও বিমানবন্দর স্টেশনেও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অনলাইনে টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী এখনো কমলাপুর স্টেশনে আসছেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের নির্ধারিত আসনের টিকিট পাওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের জন্য আসনবিহীন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাও রাখা হবে।